আইএমএফের প্রেসক্রিপশন কাজ করছে না, মূল্যস্ফীতি আবার বাড়তে শুরু করেছে

সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রেসক্রিপশন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে দেয়া হয়েছিল, সেটি কাজে আসছে না। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারো বাড়তে শুরু করেছে।

সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রেসক্রিপশন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে দেয়া হয়েছিল, সেটি কাজে আসছে না। দেশে মূল্যস্ফীতি আবারো বাড়তে শুরু করেছে। গত নভেম্বরের পর ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) থেকে জানানো হয়েছে। মূল্যস্ফীতি এমন এক সময় বাড়ছে যখন দেশের ডলার সংকট অনেকটা কেটে গেছে, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) উদ্বৃত্তের ধারায় ফিরেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে এবং বিনিময় হারও স্থিতিশীল হয়েছে।

জ্বালানি তেলসহ ভোগ্যপণ্যের মূল্য বিবেচনায় সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সাল ছিল বৈশ্বিকভাবে স্বস্তির বছর। এ সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটা কমেছে। মূল্য কমেছে চাল, গম, সয়াবিন তেল, গুঁড়া দুধ, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্যের। দামের পাশাপাশি গত বছর সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও কমেছে। যদিও বিশ্ববাজারে দাম ও পরিবহন ব্যয় কমার সুফল বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। উল্টো আগের দুই বছরের মতো বিদায়ী বছরজুড়েও তাদের ভুগতে হয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, নভেম্বরের পর বিদায়ী বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার দেখানো হয়েছে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর আগে নভেম্বরে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। সরকারি সংস্থাটির ভাষ্য, ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। সংস্থাটির হিসাবে টানা তিন মাস ধরে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালজুড়ে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ সফল না হলেও বিদায়ী বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ। আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। যেখানে ২০২৩ সালে এ হার ৬ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল। আর আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্য বলছে, গত বছর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির গড় হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। যেখানে ২০২৪ সালে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জেপি মরগান রিসার্চের তথ্যেও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ শতাংশ কমে আসার কথা জানানো হয়েছে।

গত বছর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় সাফল্য দেখিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকা। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে প্রতিবেশী ভারতের মূল্যস্ফীতি দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসে। ডিসেম্বরেও মূল্যস্ফীতির এ হার অব্যাহত থাকবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। আর গত বছরের অর্ধেকের বেশি সময় মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক ধারায় ছিল শ্রীলংকায়। বছরের শেষের দিকে এসে এ হার কিছুটা বাড়লেও ডিসেম্বরে এ হার ২ দশমিক ১০ শতাংশ ছিল বলে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকা থেকে জানানো হয়েছে। কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানও ২০২৫ সালে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য পেয়েছে। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসে।

অর্থনীতিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোতে কার্যকর সুফল মেলেনি। উল্টো সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও ঋণের সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, সেটি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ঋণের অভাবে বেসরকারি খাত আরো দুর্বল হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ রুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের সার্বিক ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেসব নীতি ও পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো সফল হয়নি বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক কয়েক বছর ধরে সুদহার বাড়িয়ে, সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো কাজে দেয়নি। উল্টো আমরা দেখছি, দুই মাস ধরে এ হার আবারো বাড়ছে। তার মানে, দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চাহিদাজনিত কারণ থেকে সৃষ্ট নয়। এটি সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি, বাজার ব্যবস্থাপনার ঘাটতিসহ আনুষঙ্গিক পরিস্থিতি থেকে তৈরি হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারও বাজারের ক্ষমতাশালী, মাফিয়া গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী বর্তমানে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক পদে রয়েছেন। প্রতিবেশী দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য ও বাংলাদেশের ব্যর্থতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভারতে মূল্যস্ফীতি এখন ১ শতাংশেরও কম। শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক ধারায়। পাকিস্তানেও এ হার ৬ শতাংশের নিচে। তাহলে আমরা কেন ব্যর্থ হচ্ছি, সেটি পর্যালোচনা করা দরকার। গত এক বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম কমেছে। আমদানি মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান বিরাট। সরকার মধ্যস্বত্বভোগীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।’

এ অর্থনীতিবিদের বক্তব্যের যথার্থতা মিলছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে। বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি পিঙ্কশিট, শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডের (সিবিওটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে বিশ্ববাজারে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ছিল ১ হাজার ৭০ ডলার। ডিসেম্বরে এ দাম কমে ১ হাজার ৮ ডলারে নেমে আসে। দেশে ভোজ্যতেলের প্রধান পণ্য সয়াবিনের দামও বিশ্ববাজারে কমেছে। গত বছরের শুরুতে প্রতি টন সয়াবিনের দাম ১ হাজার ৬১ ডলার থাকলেও ডিসেম্বরে তা নেমে আসে ১ হাজার ৪০ ডলারে। ভোজ্যতেলের পাশাপাশি ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে চালের দামও কমেছে। যদিও দেশের বাজারে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান এ খাদ্যপণ্যের দাম না কমে উল্টো বেড়েছে।

গত বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি চালের দাম ছিল ৪৭৮ ডলার, বছর শেষে এ দর ৪১৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে বিশ্ববাজারে কমেছে চিনির দামও। বছরের শুরুতে প্রতি কেজি চিনির মূল্য ৪০ সেন্ট থাকলেও ডিসেম্বরে তা ৩০ সেন্টে নেমে যায়। আর গমের দামও টনপ্রতি প্রায় ২৫ ডলার কমেছে। গুঁড়া দুধের দাম কমেছে টনপ্রতি ১০০-২০০ ডলার। কিন্তু এসব ভোগ্যপণ্যের দাম কমার কোনো সুফলই বাংলাদেশের মানুষ পায়নি। যদিও এসব পণ্যের অনেকগুলোর বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ভোগ্যপণ্যের পাশাপাশি গত বছর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৮ দশমিক ২ ডলার থাকলেও ডিসেম্বরে এ দর ৫৮ ডলারে (ডব্লিউটিআই) নেমেছে। যদিও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম খুব বেশি কমেনি।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের পরই দেশে মূল্যস্ফীতি উসকে উঠতে শুরু করে। ওই সময় ডলার সংকট শুরু হলে অবমূল্যায়ন ঘটে টাকার। প্রতি ডলার ৮৪ থেকে বেড়ে মাত্র আড়াই বছরে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে টাকার প্রায় ৪৫ শতাংশ অবমূল্যায়নের ধাক্কায় দেশে মূল্যস্ফীতিও তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৩ সাল থেকে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান তথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। কিন্তু সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির মাধ্যমেও বাজারে মূল্যস্ফীতি তেমন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠে যায়। পরে তা কিছুটা কমতে শুরু করে গত বছরের অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা ৩৯ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। তবে নভেম্বরে এসে মূল্যস্ফীতি আবারো বাড়তে শুরু করে। অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ থাকলেও নভেম্বরে এ হার বেড়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে উন্নীত হয়। সর্বশেষ ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি আরো বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে ঠেকেছে। তবে অনেকে মনে করেন, এ হিসাবের চেয়ে বাজারে পণ্যের দাম বেশি অনুভূত হয়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদায়ী বছরজুড়ে দেশে সবজির বাজার বেশ চড়া ছিল। বিশেষ করে শীত মৌসুম শুরুর পরও গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সবজির দাম তেমন কমেনি। ডিসেম্বরের শেষ দিকে কৃষক পর্যায়ে সবজির দামে বড় পতন হলেও তার সুফল ক্রেতা পর্যায়ে পৌঁছেনি। আবার গত বছর চাল, ডাল, চিনি, আটা, মাছ-মাংস, এলপিজিসহ বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এ কারণে বছরজুড়ে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশিত মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌দেশের ৬৪ জেলার বিভিন্ন বাজার থেকে তথ্য নিয়ে আমরা মূল্যস্ফীতি যাচাই করি। তাতে দেখা যাচ্ছে, গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। বাজারে সবজির দাম কিছুটা বেশি ছিল। তবে আগের বছরের (২০২৪) এ সময়ের তুলনায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কম। ডিসেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত কিছু পণ্যের দামও সামান্য বেড়েছে। এসবের প্রভাবেই গত দুই মাসে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি। তবে আগের বছরের তুলনায় মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী।’

অবশ্য বিবিএসের দেয়া মূল্যস্ফীতির তথ্যের যথার্থতা নিয়ে বহুদিন ধরেই দেশের অর্থনীতিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে আসছেন। সরকারি এ সংস্থার ঘোষিত তথ্য আমলে নিলেও গত বছর বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল গোটা দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ। শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতির হার গত মাসে ছিল ২ দশমিক ১০ শতাংশ। যদিও আড়াই বছর আগে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করা শ্রীলংকার মূল্যস্ফীতি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। এত উচ্চ মূল্যস্ফীতি মাত্র দুই বছরে নিয়ন্ত্রণে এনেছে দেশটি।

শ্রীলংকার মতোই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। গত মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৬। অথচ ২০২৩ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মূল্যস্ফীতির হারও বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যে গত মাসে ভারতের মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১ শতাংশেরও (০.৭১%) কম।

জানতে চাইলে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে মূল্যস্ফীতি না কমে গত দুই মাসে আবারো বাড়ছে, যা সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মূল্যস্ফীতি সামান্য ওঠানামা হলেও সামগ্রিক প্রবণতায় কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই। সরকার সুদহার বাড়িয়ে চাহিদা কমানোর চেষ্টা করেছে ঠিকই, কিন্তু এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। কারণ নীতিগত সমন্বয়, বাজার কাঠামো ও বাহ্যিক ঝুঁকিগুলোর প্রভাবসহ বহুরূপী চাপে স্থায়ী মূল্যস্থিতি তৈরি হয়নি।’

কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ আরো বলেন, ‘গত দুই মাসে পেঁয়াজ ও শাকসবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরো তীব্র করেছে। এটি দেখায়, দেশে কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা দুর্বল এবং বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে কেবল আর্থিক নীতি প্রয়োগ নয়, বরং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য।’

আরও